History of Establishment

ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা জনাব, নূরুল ইসলাম ফরহাদ এর ভাষ্যমতে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম এর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরা হলো......

অন্ধকার ররজনীতে নির্জনে গৃহকোণে ছোট প্রদীপ শিখাটি যখন মিট মিট জ্বলে তখন মনে হয় এ যেন একান্ত আপনার বস্তু, এ যেন আমাদের হৃদয়ের আলো। আমাদের ক্ষুদ্র সংসারের সাথে তার যেন অনেক মিল। তাই তো প্রদীপ শিখাকে আমরা অনেক ভালোবাসি, হৃদয়ে গ্রহণ করি। ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র কথাই বলছি। শুরুতেই যার নাম ছিলো ফরিদগঞ্জ ক্ষুদে লেখক ফোরাম। দেখতে দেখতে কেটে গেল ২০ বছর। আজ লেখক ফোরামের আকাশে অনেক তারা। বাগানে অনেক ফুল। সেই ফুলের গন্ধে চারোপাশ ম-ম করছে। আজ ফুলের মধু আহরনে মৌ পোকার অভাব নেই। কিন্তু কেউ খবর রাখেনি বাগানের মালি বা মালিকের। খরব নেয়নি বাগানটি কিভাবে তৈরি হয়েছে। আজ বলবো সে না বলা কথা। এক দশকের শেষের দিকে এসে এ বাগানের উপর ভর করেছে কিচু হুতুম পেঁচা। যদিও েএকটি সুন্দর ফুলের বাগান নষ্ট করার জন্য একটি হুতুম পেঁচাই যথেষ্ট। সেখানে একাধিক হুতুম পেঁচা।

যে কোনো সংগঠন গঠণ করা সহজ কিন্তু তাকে ধরে রাখা খুবই কঠিন। বহু ত্যাগ-তীতিক্ষার বিনিময়ে আজ ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। চলার পথে শুনতে হয়েছে অনেক কটাক্ষ। পরিচালনায় সহকর্মীদের অনেক অবহেলা, অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মুখ বুজে সহ্য করেছি।

ছোটবেলা থেকেই আমার র্সজনশীল বই পড়ার অভ্যাস। এটা আমার পারিবারিক ঐতিহ্য। আমার নানা মৌলভী আনোয়ার (মুন্সি নামে তিনি এলাকায় অখি পরিচিত ছিলেন) বাংলা, আরবি এবং উর্দু সাহিত্যের পাঠক ছিলেন। নানী ফাতেমা বেগম (আমার আদর্শ এবং প্রিয় মানুষ) ছিলেন আরবি এবং বাংলা সাহিত্যের পাঠক। আমার বাবা ডা. মো. আনোয়ার উল্লাহ ইংরেজি এবং বাংলা সাহিত্যের পাঠক ছিলেন। আমার মা এখনো নিয়মিত দুই বেলা সময় করে বই পড়েন। এই ৪ জনের ৩ জনই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমার আম্মা এখনো বর্ষাকালে খায়রুল হাসর, গাজী কালু, বেহুলা লক্ষ্মিনধর, শেখ ফরিদ সহ আরো অনেক পুঁথি পড়েন। তাদের সবার কাছেই অনেক বই সংগ্রহে ছিল। বাবার সংগ্রহে প্রায় ২ শতাধিক বই ছিলো। এর সিংগভাগই ছিল ইংরেজি সাহিত্যের। আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন থেকেই সৃজনশীল বই ক্রয় করতে থাকি। ১৯৯৮ সালে লেখালেখি করি। ২০০০ সাল থেকে পত্রিকায় লেখা পাঠাই।

ছোট বেলায় যখন বালি নিয়ে খেলা করতাম তখন আমার বন্ধুরা আমাকে ঘিরেই খেলা করত। আমি এসব খেলা থেকে কিছু তৈরিতে বেশি আগ্রহী ছিলাম। যেমন- বাঁশের কঞ্চি, সুপারি-নারিকেল-কলাগাছের পাতা এবং খড় দিয়ে ঘর বানাতাম। কলার বাকলের সাথে মটর পাখা দিয়ে নৌকা বানিয়ে পুকুরের পানিতে চালাতাম। যখন স্কুলে ভর্তি হই তখন ক্লাসের নেতৃত্ব দিতাম। ২০০১ সালে আমার এলাকায় আমারই নেতৃত্বে একটি পাঠাগার গঠন করা হয়। যখন আমি এলাকা ছেড়ে ফরিদগঞ্জ সদরে থাকতে শুরু করি, তার কয়েক বছরের মাথায় পাঠাগারটি মুখ থুবড়ে পড়ে। অনেক চেষ্টার পর ও তা আর ধরে রাখতে পারিনি। এ দিকে সময় দিতে গিয়েই পাঠাগারটি হারিয়ে যায়। 

২০০৩ সাল থেকে আমি ফরিদগঞ্জ সদরে থাকি। সে সুবাধে সদরের বেশ কিছু তরুণের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের বেশির ভাগেই আমার বয়সে ছোট। বিশেষ করে মাকসুদুর রহমান রাজু, শাহাজালাল সুইট, আরমান, অপু, সালাহ উদ্দিন সোহেল (সমবয়সী)। রমজান মাসে আমরা সবাই একত্রে তারাবির নামাজ পড়তাম, নামাজের আগে পরে একত্রে ঘুরতে বের হতাম। আবার ভোর রাতে সেহরি খেয়ে নামাজ পড়ে হাঁটতে বের হতাম। আবার ভোর রাতে সেহরি খেয়ে নামাজ পড়ে হাঁটতে বের হতাম। সেই সাথে দুষ্টমি তো থাকতই। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুষ্টমি করত আরমান। এ কথাগুলো ২০০৪ সালের। রোজা প্রায় শেষের পথে। সবাই দিনের অধিকাংম সময় একত্রে কাটাই কিন্তু একটা ইফতারও সবাই মিলে করতে পারলাম না, এ খষ্ট আমাকে খুব পীড়া দিত। একদিন কথার ছলে তাদেরকে বলেই দিলাম আমরা একদিন সবাই মিলে একত্রে ইফতার করব। সবাই এক বাক্যে রাজি হয়ে গেল। আমরা এক একজন ২০ টাকা করে চাঁদা দিলাম। দিন তারিখ ঠিক হল। কিন্তু সমস্যায় পড়লাম স্থান নিয়ে। একদিন সাহস করে আরমানকে সাথে নিয়ে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল আলিয়া মাদ্রাসার হেড মোহাদ্দেস মোমিন হুজুরের কাছে যাই। হুজুরকে সব কথা খুলে বললাম এবং এও বললাম যে হুজুর আপনাকে অবশ্যই থাকতে হবে খুব সুন্দরভাবে আমাদের ইফতার পার্টি শেষ হলো আলিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায়।

মাঝে মাঝে এমন কিচু সফলতার দিগন্ত উন্মোচিত হয়, যা মানুষের আকাঙ্খাকেও অতিক্রম করে এক অসম্ভবকে সম্ভবনার আওতায় এনে হাজির করে। ফরিদগঞ্জ লেখক ফোর সে রকমই একটি স্বপ্ন। একটি উন্মেচিত দিগন্তের নাম। দূর্বা ঘাসের মতো সতেজ নির্মল যে কিশোর প্রভাতের আলোয় বেড়ে উঠবে অকৃত্রিমবাবে, সে আলোর উৎস হবার জন্যই সাহিত্যের ঝলমলে বাগানে একদিন জন্ম নিয়েছে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম।

আমার লেখা লেখির সুবাধে রাজু, অপু, আরমান, সুইট, সোহেল আমার সাথে মিশতো এবং আমাকে যথেষ্ঠ সমীহ করতো। এরই মাঝে রাজু, সোহেল এবং আরমান লেখালেখি শুরু করেছে। তাদের লেখাগুলো আমি একটু সংশোধন করে পত্রিকায় পাঠাতাম। ইফতার মাহফিল শেষে আমার অস্থিরতা বেড়ে যায় একটি সংগঠন করার। সাহস করে কাউকে বলতে পারছি না যদি প্রত্যাখ্যান করে। তবে মনে মনে স্থির করে ফেলি আমি একটি সংগঠণ সৃষ্টি করবই। কারো সাথে শেয়ার না নিজে নিজে ভাবতে লাগলাম কি ধরনের সংগঠন করা যায়। বেশি সময় লাগেনি এক সপ্তাহর মধ্যেই মনস্থির করে ফেলি সাহিত্য সংগঠনই করব। কার্যক্রমের মধ্যে সামাজিক এবং সাংস্কিৃতিক কর্মকাণ্ডও থাকবে। সংগঠনের নাম ঠিক করি ফরিদগঞ্জ ক্ষুদে লেখ ফোরাম। এ নামটি সামনে রেখে সংগঠন পরিচালনার জন্য যা যা লাগে তার একটি খসড়া তৈরি করি। খসড়াটি প্রথম দেখেই দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠেরে নির্বাহী সম্পাদক মির্জা জাকির ভাইকে। তিনি দেখলেন এবং অনুপ্রেরণা দিলেন। দিগুন উৎসাহ নিয়ে ফরিদগঞ্জ আসলাম। কিছু দিন পর তিনি বিদেশ চলে যান। তারপর একই দায়িত্ব পান সাঈদ ভাই। তার অনুপ্রেরণায় আর পরামর্শেই আমি জাতীয় পত্রিকায় লেখি। তার নির্ধারিত আমার একটা লেখা জাতীয় পত্রিকায় পাঠাই। মজার ব্যাপার হলো সাঈদ ভাইয়ের পছন্দকৃত আমার পাঠানো প্রথম লেখাটিই পত্রিকা কর্তৃপক্ষ প্রকশা করল।

 

No comments: